ঈদের দিন অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দিলেন ফেনী প্রবাসী ফোরাম

করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যেই বাংলাদেশে আজ পালিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর। করোনার এই সংকট সময়ে ঈদের দিনেও অনেকেই কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। কারো কারো কপালে জুটছে না ভালো খাবার। অনেকটাই উৎসব-আমেজহীন ঈদ কাটছে এসব মানুষদের।

তাই ঈদের দিন যেনো অন্তত এসব দিনমজুর, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটে সেই উদ্যোগ নিয়েছেন সোদি আরবের হাফার আল বাতেন প্রদেশস্ত ফেনী প্রবাসী ফোরাম। 
১৪ই মে ঈদের দিন শুক্রবার দুপুরে ফেনীতে গরীব অসহায় ও অধিকার বঞ্চিত পথশিশুদের ৫০০ জনের অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছে প্রবাসীদের এই সংগঠনটি। এ সময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে ।উপস্থিত ছিলেন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ বুলবুল আহমেদ।
ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন সোহেল আবদুল আলিম, মোহাম্মদ শরীফ, আমিনুল ইসলাম, বেলায়েত হোসেন,মোহাম্মদ মফিজ,মোহাম্মদ পারভেজ প্রমুখ ।

এ  ব্যাপারে ফেনী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম   বলেন- করোনাভাইরাসের কারণে পুরো পৃথিবী এখন আক্রান্ত। যার কারণে বিশ্বে অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। তাই সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন যারা দিনমজুর এবং হতদরিদ্র। এসব মানুষের জন্য ঈদের দিন ফেনী প্রবাসী ফোরাম খাবারের আয়োজন করেছে। আমরা প্রায় ৫০০ মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছি। 

তিনি বলেন- আমরা যারা প্রবাসে থাকি। আমাদের মন সবসময় দেশেই পড়ে থাকে। আর দেশের মানুষ কষ্টে থাকা মানে আমরাও কষ্টে থাকা। তাই বর্তমান সময়ে করোনার কারণে আর্থিকভাবে প্রবাসীরা সমস্যায় থাকলেও প্রবাসী ফোরামের পক্ষ থেকে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সব্বোর্চ্চ চেষ্টারত আছি।

এর আগেও করোনার এই দুর্যোগের সময়ে ফেনী প্রবাসী ফোরামের পক্ষ থেকে নিজ জেলায় দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম  বলেন- সামনের দিনগুলোতেও যেকোনো দুর্যোগে নিজ জেলার পাশে এবং জেলার গরিব অসহায় মানুষের পাশে সংগঠনটি থাকবে।

নয়নের মায়ের আত্মবিলাপ নয়নকে নয়ন ভন্ড কে বানিয়েছেন

নয়নের মায়ের আত্মবিলাপ___নয়নকে নয়ন ভন্ড কে বানিয়েছেন?

খুনির লাশ আমি দেখবো না! যেখানে মন চাই সেখানে পুঁতে পেলেন!! মা

#রিফাত খুনের আসামী নয়ন বন্ড ক্রসফায়ারে নিহত
হবার পর তা মা বলেন
কোথায় আজ এমপি পুত্র? যে কথায় কথায় বলত আন্টি
আপনার ছেলের কিছু হবেনা।

কোথায় আজ থানা পুলিশ? যারা আমার লাজুক নয়ন কে
আজকের নয়ন বন্ড বানিয়েছে?
থানা পুলিশ প্রতিদিন আসত আমার বাড়িতে
তারা সারারাত নয়ন আর রিফাত ফরাজী ও রিসান ফরাজীর
সাথে আড্ডা দিত।
রাতভর নেশা করত। হেরুইন ইয়াবা সেবন করত।
মাঝে মাঝে মেয়ে নিয়ে আসত আমার বাড়িতে
সারারাত ফুর্তি করত, কোথায় আজ সেইসব পুলিশ?
আমি মা হয়েও ছিলাম অসহায়, একবার আমি নিজে
থানায় অভিযোগ করছিলাম পরে পুলিশ তা নয়ন কে
জানিয়ে দেয়, তারপর নয়ন আমাকে মারধর করে
বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমি তিনদিন বাড়িতে
আসতে পারিনি।

মিন্নীকে নয়ন ডিস্টার্ব করত একথা ৪মাস আগে মিন্নী নিজেও
আমাকে বলছিল।
আমি মিন্নীকে বলছিলাম একটা ভাল ছেলে দেখে বিয়ে
করে নাও তাহলে হয়তো আর ডিস্টার্ব করবেনা।

রিশান ফরাজী আর রিফাত ফরাজীর মাদক ব্যাবসার আর
ছিনতাই চাঁদাবাজি আমার নয়ন শুধু দেখাশুনা করত।

তারা দুজন ই আগে রিফাত কে কুপিয়েছে
কই তাদের একজন তো গ্রেফতার হয়েছে কিন্তু
আমার নয়নের মত ক্রসফায়ার দেওয়া হয়নি।

তাদের খালু জেলা চেয়ারম্যান বলে?
যেই পুলিশ আমার নয়ন কে সন্ত্রাস বানিয়েছে তারাই
আমার নয়নের বিরোদ্ধে আজ কথা বলছে।

আমি নয়নের মৃত্যুতে কোন অভিযোগ করবনা কিন্তু
যে পুলিশেরা আমার লাজুক নয়ন কে আজকের নয়নে
পরিণত করেছে আমি তাদের বিচার চাই।
তাদের বিচার না হলে ঘরে ঘরে এরা নয়ন জন্ম দিবে।

রিফাতকে খুন করার দুদিন আগের রাতেও দুজন পুলিশ
আমার ঘরে নয়নের সাথে আড্ডা দিয়েছিল ৩ ঘন্টা।

আমি অসুস্থ শরীর নিয়েও তাদের জন্যে খাবার বানিয়ে
ছিলাম।

তারা আমার সামনেই মদ খেয়েছে।

[সংগৃহীত]

ব্রেকিং নিউজ রিফাত হত্যা: প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত।

দিনে-দুপুরে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অন্যতম প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

মঙ্গলবার (০২ জুলাই) ভোরে এ বন্দুকযু*দ্ধের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন।

তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি চাপাতি, একটি পি*স্তল ও তিন রাউন্ড গু*লি উদ্ধার করা হয়েছে। নয়ন বন্ডের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে সোমবার (০১ জুলাই) সন্ধ্যায় মামলার এজাহারভুক্ত ১১ নম্বর আসামি অলি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা অভিযুক্ত তানভীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া, নাজমুল হাসান, সাগর ও সাইমুন নামে অপর তিনজন বর্তমানে পুলিশি রিমান্ডে রয়েছেন। এদিকে মামলার ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয় গ্রে*ফতার হলেও তিনি বরগুনা জেলা পুলিশের কাছে পৌঁছায়নি।

গত ২৬ জুল (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডে স*ন্ত্রাসীরা স্ত্রীর সামনেই কু*পিয়ে গুরুতর জ*খম করে রিফাত শরীফকে। পরে বিকেলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃ*ত্যু হয়। ওই ঘটনার ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে প্রতিবাদ-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এবার চট্টগ্রামে প্রকাশ্য যুবককে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা!


চট্টগ্রামে আধিপত্যবিছতারে এবার চট্টগ্রামে বিশ্ব কলোনিতে মহসীন নামে এক যুবক কে দিন দুপুরে প্রকাশ্য কুপিয়ে ও স্টাম দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে পতিপক্ষ। গতকাল ( ৩০ জুন) বিকেল ৫ ঘটিকায় বিশ্ব কলোনি এন ব্লকে এ ঘটনা ঘটে
আহত মহসীন ৯ নং উত্তর পাহাড়তলি আওয়ামীলীগ নেতা সরোয়ার মোরশেদ কচি সমর্থক। স্থানীয়রা জানান বিকেল আনুমানিক ৫ টার দিকে একদল সন্ত্রাসী মহসীনের উপর অতর্কিত হামলা করে এলোপাথাড়ি কুপায় ও স্টাম দিয়ে পিটিয়ে যখম করে চলে যায়।

সন্দ্বীপ ঘাটে ২ প্রবাসীকে মে রে নদীতে ফেলে দিল বোটচালক

প্রবাসীকে মেরে- চট্টগ্রামের কুমিরা ও সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া নৌপথে সার্ভিস বোট থেকে কূলে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত লালবোটে অতিরিক্ত যাত্রী হিসেবে উঠতে অস্বীকৃতি জানানোয় দুবাইফেরত দুই প্রবাসীসহ চার যাত্রীকে পি টি য়ে নদীতে ফেলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে। হা ম লার শিকার ওই চার যাত্রী হলেন- মো. মানিক, মো. সোহেল, মো. শিবলু ও মো. শিহাদ। তারা সবাই সন্দ্বীপ মুছাপুরের আলীমিয়ার বাজার এলাকার মান্দিরগো বাড়ির বাসিন্দা ও সম্পর্কে সবাই আত্মীয়।

জানা যায়, দুবাইফেরত দুই প্রবাসী সোহেল ও শিবলু চট্টগ্রামের কুমিরা ঘাট থেকে সার্ভিস বোটে করে সন্দ্বীপ যাচ্ছিলেন। দুই প্রবাসীর মা-বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের সঙ্গে ছিলেন। সন্দ্বীপের কূলে আসার পর ভাটার কারণে সার্ভিস বোট থেকে যাত্রীদের কূলে নামানোর জন্য আসা লালবোটে উঠাচ্ছিল।

সঙ্গে ছোট বাচ্চা ও মহিলা থাকায় দুবাই প্রবাসী সোহেল অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় সেই বোটে উঠতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু বোটের চালক ও স্টাফরা তাকে নামতে জোরজবরদস্তি শুরু করে। সোহেল তাতেও অসম্মতি জানালে স্টাফদের একজন সোহেলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এর প্রতিবাদ করার পর স্টাফরা প্রথমে সোহেলকে ধাক্কা দিয়ে সার্ভিসবোট থেকে লালবোটে ফেলে দেয়।

পরে সেখানে তাকে বেধড়ক পেটায়। সোহেলকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বাবা ও ছোট দুই ভাইকেও মারধর করে ঘাট ইজারাদারের লোকজন। এ সময় সার্ভিস বোটে থাকা যাত্রীরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ইজারাদারের লোকজন লালবোট চালিয়ে সার্ভিস বোট থেকে দূরে সরে যায়। সেখানে ওই অবস্থায় আরেক দফা মা র ধ র করে। পরে কূলের কাছাকাছি এলে একজন কর্মচারী প্রবাসী সোহলকে লাথি দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী আরাফাত রহমান সাব্বির বলেন, হঠাৎ করেই দেখি ঘাটের লোকজন মিলে লালবোটে ফেলে একজনকে মারছে। ওই লোককে বাঁচাতে ২/৩ জন সার্ভিস বোট থেকে লাফিয়ে লালবোটে নামে। সঙ্গে সঙ্গে তারা লালবোটটা সার্ভিস বোটের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়। কিছুদূর নিয়ে গিয়ে নৌকা থামিয়ে নদীর মাঝখানে তাদের আবার পেটানো হয়। পরে কূলে নিয়ে লাথি মেরে বোট থেকে ফেলে দেয়। তার মা-বোনসহ স্ত্রী ও মেয়ে ওই সময় সার্ভিস বোটে ছিল।

হামলার শিকার দুবাই প্রবাসী সোহেল বলেন, একটি লালবোটে ৬০ জনের বেশি যাত্রী নেয়ায় আমি উঠতে রাজি হইনি। এ জন্য ওরা আমাকে ও আমার ভাইদের মেরে নদীতে ফেলে দিয়েছে। প্রবাসে বসে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিরা গুপ্তছড়া ঘাটে যাত্রীদের প্রতি অ ত্যা চা র করার কথা শুনেছিলাম, আজ আমি নিজে প্রবাস থেকে দেশে এসে নিজে অত্যাচা রের শিকার হলাম।

সোহেল আরও বলেন, আমরা প্রবাসীরা বাংলাদেশের মাটিতে নামলে এয়ারপোর্ট থেকে হয়রানির শিকার হতে শুরু করি, সরকার আমাদেরকে বলে রেমিট্যান্স যোদ্ধা, দেশের অর্থনৈতিক চাকা নাকি আমরাই ঘুরাই, অথচ দেশে এলে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই, ভাগ্য ভালো অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।

এ ঘটনায় কুমিরা গুপ্তছড়া ঘাটের ইজারাদার এসএম আনোয়ার হোসেন সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি।

সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. শরিফুল আলম বলেন, গুপ্তছড়া ঘাটে যাত্রীদের ওপর হামলার একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেব।

রিফাতের পর এবার নার্স‌ তানজিনা নৃশংসতার শিকার

বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঠাকুরগাঁওয়ে বখাটের ছুরিকাঘাতে এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে।

বখাটের ছুরিকাঘাতে ৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নার্স তানজিনা আক্তার (২০)।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, নিহত তানজিনা আক্তার শহরের গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের নার্স ও সালন্দর ইউনিয়নের মাদরাসাপাড়া গ্রামের হামিদ আলীর মেয়ে।

গত ২০ জুন ঠাকুরগাঁও শহরের মাদরাসাপাড়া এলাকায় জীবন নামে এক বখাটের ধারালো ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হন নার্স তানজিনা আক্তার। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তানজিনা। এ সময় আগে থেকে রাস্তায় ওঁৎ পেতে থাকা বখাটে জীবন তার গতিরোধ করে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।

একপর্যায় তানজিনা আক্তারের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে বাখাটে জীবন পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা জীবনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

প্রতিদিন এলাকার বিভিন্ন মেয়েদের উক্ত্যক্ত করতো। আমার মেয়ে অন্যায় সহ্য করতে না পেরে উক্ত্যক্তকারী জীবনকে শাসন করে। এরই জেরে জীবন আমার মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, এই ঘটনা ঘটানোর দিনই তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জীবনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

দাঁড়ানো ছেলেগুলো দর্শক নয়, তারাই প্রথমে হামলা করে: মিন্নি

গতকাল বুধবার বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে কোপানোর সময় যারা চারপাশে দাঁড়িয়ে ছিল তারাই প্রথমে আক্রমণ করে ও রিফাতকে মারধর করে বলে জানিয়েছেন রিফাতের স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি।

এ ব্যাপারে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, বারবার সাহায্য চাওয়ার পরও দূরে দাঁড়িয়ে যারা দেখছিল, তাদের কেউ রিফাতকে বাঁচাতে বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এগিয়ে আসেনি।

এদিকে ভিডিও ফুটেজে অনেক মানুষ দেখা গেছে, তারা কী করেছে জিজ্ঞেস করলে মিন্নি বলেন, ‘কিছু মানুষ দাঁড়িয়ে দেখেছে। আর কিছু ছেলে ছিল, যারা প্রথমে রিফাতকে আক্রমণ করে। পরে রাম দা নিয়ে দুই তিন জন কোপায়। যে ছেলেগুলো দাঁড়ানো ছিল তারা দর্শক নয়, প্রথমে তারাই হামলা করে। আর আশপাশে সবাই দেখছে, কেউ আগাইয়া আসে নাই। কেউ কোনও রকম সহায়তা করে নাই। আমি বারবার তাদের বলছি, আমার স্বামীকে বাঁচাও, ছাইড়া দাও ওরে। কিন্তু কেউ আগায় আসে নাই। আমি একলাই তারে হাসপাতালে নিয়া গেছি।’

এ সময় মিন্নি আরও জানান, চিৎকার করে অন্যদের সাহায্য চেয়ে, খুনিদের দুই হাতে জাপটে ধরে ও ধাক্কা দিয়ে সরিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি তিনি।

এ সময় কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আমি অনেক চেষ্টা করেও ফেরাতে পারিনি। রাম দা নিয়ে আক্রমণ করে খুনিরা। আমি অনেক চেষ্টা করছি, অস্ত্র ধরছি, তাদের ধরছি, চিৎকার করছি। কেউ আগায়া আসে নাই। কেউ আমারে একটু হেল্প করে নাই। আমি একলা হাসপাতালে নিয়া গেছি।’

এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘নয়ন, রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী, ওই জায়গায় যারা ছিল প্রত্যেকের ফাঁসি চাই। সুষ্ঠু বিচার চাই, যাতে এরকম আর কোথাও না হয়।’

প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা, ভিডিও ভাইরাল


বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে আজ বুধবার সকালে প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে তাঁর স্বামী নেয়াজ রিফাত শরিফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই সন্ত্রাসী। নববধূ ও এক যুবক বাধা দিয়ে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেননি।

হামলার পর শরিফকে গুরুতর আহতবস্থায় প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাকাজনক হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভর্তির এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শরিফের মৃত্যু হয়।
এদিকে শরিফকে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, সন্ত্রাসী দুই যুবক ধারালো দা দিয়ে একের পর এক কোপাতে থাকে শরিফকে। এ সময় শরিফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি দুই সন্ত্রাসীকে বারবার প্রতিহত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

এ ঘটনাটি পুলিশের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় ছিল। নিহত রিফাত শরিফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আবদুল হালিম দুলাল শরিফ। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে রিফাত।

ভিডিও চিত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, ভিডিও চিত্রে যে দুই সন্ত্রাসীকে কুপিয়ে জখম করতে দেখা গেছে তাদের একজনের নাম নয়ন বন্ড এবং রিফাত ফরাজী। তারা উভয়েই স্থানীয়ভাবে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব ঘটনায় একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছে বলে বরগুনা থানা সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর হোসেন মাহমুদ জানান, ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে সেখানে পুলিশের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনিদের শনাক্ত করা গেছে। অভিযান চলছে। শিগগিরই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে পুলিশ।

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ফেনীতে ২৩ পদে দেড় হাজার প্রার্থী

বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) এর ২৩ পদে প্রায় দেড় হাজার প্রার্থী হয়েছেন। সোমবার জেলা পুলিশ লাইনে নিয়োগ প্রত্যাশীদের শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা গ্রহন করা হয়। জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী পরীক্ষা তদারকি করছেন।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ও মৌখিক পরীক্ষা আগামী ২৯ জুন সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল আগামী ৩০ জুন বিকাল ৫ টায় প্রকাশ করা হবে।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার প্রায় দেড় হাজার শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্য থেকে ৫৫০ জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ করা হয়।

সদ্য যোগদানকারি পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী নিয়োগ পরীক্ষা শতভাগ স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে কোন দালাল বা অসাধু ব্যক্তিদের টাকা-পয়সা না দিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে মাইকিং ও বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়।

তিনি এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মীদেরও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষনিক তাকে জানানোর জন্য। টাকা-পয়সা লেনদেনের প্রমাণ পেলে তাকে মামলা দিয়ে জেলে প্রেরণের হুমকি দেন পুলিশ সুপার। এদিকে ফেনীতে ২০ জন পুরুষ ও ৩ জন মহিলা কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে।

লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসার ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মা-বাবা, ভাইসহ ৫ জনকে পিটিয়ে জখম

লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসার ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মা-বাবা, ভাইসহ ৫ জনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে বখাটেরা। রোববার রাত ৮টার দিকে জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন হাজিরপাড়া ইউপির বড়ভল্লবপুর গ্রামের আবুল কালামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে চন্দ্রগঞ্জ থানায় নিয়ে আসার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদেরকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানায়, বড়ভল্লবপুর গ্রামের লুৎফুর রহমানের মেয়ে ও আয়েশা (রাঃ) কামিল মাদ্রাসার আলিম ১মবর্ষের ছাত্রী তাসলিমা আক্তারকে মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে স্থানীয় বখাটে বিনা, সোহান, ইমন, মোহনসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন যাবত কুপ্রস্তাব দেওয়াসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।

প্রতদিনের ন্যায় রোববারও একই কায়দায় ওই মাদ্রাসা ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানি করে বখাটেরা। এতে ছাত্রীর অভিভাবকরা প্রতিবাদ করেন এবং মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান।

এতে বখাটেরা ক্ষুব্ধ হয়ে সন্ধ্যার পর ছাত্রীর পরিবারের লোকজনের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুরসহ ছাত্রীর মা-বাবা, দুই ভাই এবং পার্শ্ববর্তী ১ জনসহ ৫ জনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। আহতরা হলেন, ওই ছাত্রীর বাবা লুৎফুর রহমান, মা বকুল বেগম, ভাই বাবলু ও বাতেন এবং প্রতিবেশী ফোরকান মিয়া। একপর্যায়ে তারা ওই ছাত্রীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। উল্লেখিত বখাটেরা সবাই পার্শ্ববর্তী বসুদুহিতা গ্রামের বাসিন্দা।

ভিকটিম মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা আহত লুৎফুর রহমান ও মা’ বকুল বেগম জানান, বখাটেদের কারণে আমাদের মেয়ে পড়ালেখা করতে মাদ্রাসায় যেতে চায়না। মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে অশ্লীল আচরণ করাসহ নানাভাবে তাকে উত্ত্যক্ত করা হয়। আমরা প্রতিবাদ করায় এসব বখাটেরা দলবদ্ধ হয়ে আমাদের বাড়িতে এসে হামলা চালায়।

এ ব্যাপারে চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, রক্তাক্ত জখমী ৫ জন থানায় এসেছে। তিনি বলেন, মাদ্রাসার ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের ঘটনার প্রতিবাদ করায় হামলা হয়েছে নাকী অন্যকিছু মামলা হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।