কসম করে বলছি, বাংলাদেশে এটা করে কেউ পার পাবে না।’

কসম করে বলছি, বাংলাদেশে এটা করে কেউ পার পাবে না।’

সরকারকে ড. কামালের হুঁশিয়ারি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ এবার রাষ্ট্রকে হাইজ্যাকের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকারই হাইজ্যাক করে ফেলেছে।

এরপরই তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘এটা সংবিধানের লঙ্ঘন। কসম করে বলছি, বাংলাদেশে এটা করে কেউ পার পাবে না।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মতিঝিলে গণফোরাম কার্যালয়ে ঢাকা-৬ আসনে ঐক্যফ্রন্টের পরাজিত প্রার্থী সুব্রত চৌধুরীর নির্বাচন পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় ড. কামাল হোসেন এ হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে দ্রুত সরে পড়ার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

একইসঙ্গে দেশের মানুষকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করারও ঘোষণা দেন ড. কামাল হোসেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকসহ ৫ জনের লাশ উদ্ধার

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষকসহ ৫ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিখোঁজের চার দিন পর দুপুরে নওগাঁর ধামইরহাটে ঘুকশী নদী থেকে উদ্ধার হয় জামাল উদ্দিনের লাশ। এসময় তার হাত-পাঁ বাধা অবস্থায় ছিলো। জামাল উদ্দিন জগদ্দল আদিবাসী স্কুল ও কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক।

গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ১১ দিন পর ইজিবাইক চালক অবিনাশ পোদ্দারের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া, নরসিংদীর বিলাসদীতে রেলওয়ের জলাশয় থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হয়েছে।

সাভারে অপহরণের চারদিন পর জতীশ চন্দ্র নামে এক কাঠমিস্ত্রির লাশ উদ্ধার হয়েছে ধামরাই থেকে। এ ঘটনায় একজনকে আটক হয়েছে।

এছাড়া, বগুড়ার সান্তাহারে উদ্ধার হয়েছে মারুফ নামে এক অটোরিকশা চালকের মরদেহ।

দুর্নীতি হলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাস

দুর্নীতি বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ

ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি- সরকারি কাজে দুর্নীতি হলেই সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, সন্ত্রাস-মাদক-জঙ্গিবাদের মতোই দুর্নীতির বিরুদ্ধেও তার সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান থাকবে।

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই নির্দেশনা দেন শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর এই প্রথম তিনি এই মন্ত্রণালয়ে অফিস করলেন।

নতুন সরকারে মোট ছয়টি দপ্তর নিজ হাতে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর আরো যে নয়টি মন্ত্রণালয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী নেই, সেগুলোর তত্ত্বাবধান থাকবে তার হাতেই।

বিগত সরকারের সময়ের মতো মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি বাড়াতে এবং সৃজনশীলতার বিকাশে এবারও পর্যায়ক্রমে সবগুলো মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। জনপ্রশাসন দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ে গেলে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন কর্মকর্তারা।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে টানা প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট একটি নির্দেশনা যেতে হবে- কেউ দুর্নীতি করলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

‘আমরা বেতন-ভাতা, সুযোগ সুবিধা এতো বেশি বাড়িয়েছি-সে ক্ষেত্রে আমি তো মনে করি, আমাদের এ দুর্নীতির কোনো প্রয়োজনই নেই। যা প্রয়োজন তার সব তো আমরা মেটাচ্ছি তাহলে দুর্নীতি কেন হবে? কাজেই এখানে মানুষের মন মানসিকতাটাকে পরিবর্তন করতে হবে।’

‘যে হারে বেতন আমরা বাড়িয়েছি। এ উদাহরণ মনে হয় পথিবীর কোনও দেশেই নাই।’

আলাদিনের চেরাগ সাভার ভূমি অফিসে কর্মচারীর হাতে

আলাদিনের চেরাগ সাভার ভূমি অফিসে কর্মচারীর হাতে সাভারে ভূমি অফিসের চতুর্থ শ্রেণীর এক কর্মচারীর আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে। দুর্নীতির অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে বরখাস্ত করা হলেও থেমে নেই তার অপকর্ম। সরকারী কাগজপত্র নয়ছয় করে এবং দালালীর টাকায় তিনি বনে গেছেন প্রায় ৫০ কোটি টাকার অগাধ বিত্ত বৈভবের মালিক।

কিভাবে

আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি বিহীন সম্পদ অর্জনকারী এই ব্যক্তির নাম দীন ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি একসময়ে আশুলিয়া ভূমি অফিসে এমএলএস (চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী) পদে চাকুরী করতেন। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তাকে ধামরাই ভূমি অফিসে শাস্তিমূলক বদলি করা হলে দুর্নীতির অভিযোগে সাসপেন্ড (সাময়িক বরখাস্ত) হন। গত তিন বছর ধরে তিনি সাসপেন্ড থাকলেও আশুলিয়া ভূমি অফিসের সামনে নিজে একটি অফিস খুলে সেখানে নামজারী, খাজনা, খারিজ ও পর্চার কাজের দালালি করে আসছেন।

সাভার পৌর এলাকার গেন্ডা মহল্লার পূর্ব ভবানীপুরে তার রয়েছে বহুতল চারটি ভবন। সারি সারি এসব ভবনের মধ্যে বি ৮/৪ গেন্ডা, পূর্ব ভবানীপুর হোল্ডিংয়ের চারতলা ভবনের (১০ তলা ফাউন্ডেশন) দোতলায় তিনি থাকেন পরিবার নিয়ে। একই এলাকার বি ৮/১, বি ৮/২, বি ৫/১৯ (গেন্ডা, পূর্ব ভবানীপুর) হোল্ডিংয়ের বাড়িগুলো তার ভাড়া দেয়া। এরমধ্যে প্রশাসন ও এলাকাবাসীর চোখে ধুলো দিত ধূর্ত দীন ইসলাম একটি বাড়ির জন্য ব্যাংক থেকে ঋন নিয়েছেন বলে চাউর রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর থানার গড়নগর গ্রামের রেনু ভূঁইয়ার পুত্র দীন ইসলাম ভূঁইয়া প্রায় দেড়যুগ আগে কাজের খোঁজে সাভারে আসেন। এক সময়ে তার নুন আনতে পাত্তা ফুরালেও সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই ভূমি অফিসে নয়-ছয় করে তার নাটকিয় উত্থান ঘটে। সেই সূত্রে মোটা অঙ্কের টাকায় এলএমএস পদে চাকুরী বাগিয়ে নিয়ে ভূমি অফিসে দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকড় গড়েন।

এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। যেন আলাদীনের চেরাগ হাতে পাওয়ার মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে তার। অল্প কয়েক বছরের ব্যবধানে শুধু বেড়েছে তার সম্পদ ও নগদ টাকা। এখন সাভার পৌর এলাকার গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে চারটি বহুতল ভবন ছাড়াও টান গেন্ডা ও নামা গেন্ডায় রয়েছে আরো ৫টি প্লট। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে অল্পদিনের ব্যবধানে তার জমি ও মার্কেট দেখে ‘থ’ বনে গেছেন স্থানীয়রাও। সাভার ও বাজিতপুরের একাধিক ব্যাংকে তার নিজের, স্ত্রী, তিন কন্যা ও এক পুত্রের নামে রয়েছে ফিক্সড ডিপোজিটসহ কয়েক কোটি টাকার হিসাব। রয়েছে কয়েক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। বাজিতপুরে প্রায় ৩৪ শতাংশ জমির উপর তার পাকা-আধাপাকা মার্কেটসহ কয়েক বিঘা জমি রয়েছে। ফসলী জমির পরিমাণ প্রায় ৪০ বিঘা। তার একমাত্র পুত্র প্লাবন একটি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ধরতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করছে না। মামলার তদন্তকারী সংস্থা ও তদন্ত কর্মকর্তা বদল হলেও তাদের ভূমিকা রহস্যজনকই থেকে যাচ্ছে। স্বল্প শিক্ষিত দীন ইসলামের সম্পদের পাহাড় দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে নানাভাবে একাধিকবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ বিভিন্ন দপ্তরকে জানালেও তিনি আছেন বহালে। বৈধ কোনো আয়ের উৎস্য ছাড়া চোখ ছানাবড়া করার মতো সম্পদের মালিক দীন ইসলাম রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

স্থানীয় সূত্র মতে, দীন ইসলামের পুত্র প্লাবন আশুলিয়ার খাগানের সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হলেও ক্যাম্পাসে তিনি গরহাজির। ইভটিজিংয়ের এন্তার অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগে একবার তিনি বাড়ি থেকে নগদ ৭০ লাখ টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেন! কয়েকমাস পর বাড়ি ফিরলেও মা-বাবার আল্লাদে প্লাবন মাদক সেবনসহ নানাবিধ অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। সর্বশেষ গতবছরের ২১ আগষ্ট সাভারে ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় ঢাকা কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী মারুফ খানকে (২১) ছুরিকাঘাতে নৃশসভাবে হত্যা করা হয়। সাভার পৌর এলাকার গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে সংঘটিত ওই ঘটনায় স্থানীয় বখাটে মঞ্জু ও প্লাবন নেতৃত্ব দেয়। মারুফের বড়ভাই লুৎফর রহমান খান মানিকের দায়েরকৃত মামলায় প্লাবন তিন নম্বর আসামি। ঘটনার পর পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি ও সিআইডি তাদের বাসায় অভিযান চালায়। প্লাবন কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে বেড়ালেও অধড়া রয়েছেন। তবে অল্পদিন পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থেমে যাওয়ায় গুঞ্জন রয়েছে ‘সব ম্যানেজ’!

এদিকে দীন ইসলামের বাড়িতে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজনকে ভাড়া রাখার নামে তিনি নিজের কালো টাকা ও অবৈধ সম্পদ রক্ষার কৌশল করছেন বলে চাউর রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেহিসাবী সম্পদের মালিক দীন ইসলাম পুত্র প্লাবন শুধু মাদক সেবন নয় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এই ব্যবসায় তার কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগও রয়েছে।

এসব ব্যাপারে জানতে দীন ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি এখন পেনশনে আছেন। তিনি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং সম্পদ বিবরণ আয়কর নথিতে উল্লেখ করা আছে। একমাত্র পুত্র হত্যা মামলার আসামি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনো তার জামিন হয়নি।

এক দেশে ছিল এক রাজা

এক দেশে ছিল এক রাজা, একদিন রাজার মৎস শিকারের সখ হলো। রাজা আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে ডেকে
জিজ্ঞাস করলো, আমি মৎস শিকারে যেতে চাই, আজকের আবহাওয়া কেমন থাকবে?

সে বল্লো আজকে সুন্দর উজ্জল চমৎকার আবহাওয়া থাকবে জাহাপবা, আপনি যেতে পারেন। রাজা বের হলেন।
রাজা যখন সাগর পাড়ে গেলেন, সাগর পাড়ে এক জেলে ছাগল ছড়াচ্ছিলে, সে বলেন মহারাজ আজকে কেন আপনি সাগরে যাচ্ছেন? একটু পরেতো বৃষ্টি হবে! রাজা বল্লেন বেটা জেলের বাচ্চা তুই কি জানিস? আমি আবহাওয়ার খবর জেনেই এসেছি।

রাজা সাগরে গেলেন, কিছুক্ষন পর শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি! রাজা প্রাসাদে ফিরে এসে আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে বরখাস্ত করে, ঐ জেলেকে ধরে এনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানিয়ে দিলেন!
জেলে পড়লো বিপদে সেতো আবহাওয়ার কিছুই জানেনা, রাজ দরবারে গিয়ে জেলে বল্লো মহারাজ আমাকে যেতেদিন আমি আসলে আবহাওয়ার কিছু জানিনা। রাজা বল্লো তাহলে ঐদিন আমার আবহাওয়া বিভাগ থেকেও সঠিক খবর তুই কি করে দিলি!

জেলে উত্তর দিল, মহারাজ সেখানে আমার কোন কৃতিত্ব ছিলনা! সব কৃতিত্ব আমার ছাগলের! বৃষ্টি আসার আধাঘন্টা আগেথেকে ছাগলটা ঘনঘন মুতে! এর থেকে আমি বুঝতে পারি একটু পর বৃষ্টি হবে!
তারপর রাজা জেলেকে ছেড়ে দিয়ে তার ছাগলটাকে ধরে এনে আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানিয়ে দিলেন! সেই থেকেই বড় বড় পদগুলোতে ছাগল নিয়োগ দেওয়ার রীতি চালু হয়েছে।