সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৪

সৌদি আরবের সাগরা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।

আজ বৃহস্পতিবার (২ মে) সকালে রাজধানী রিয়াদ থেকে একশত কিলোমিটার দূরের শহর সাগরাতে যাবার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সাগরা প্রবেশ পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি দুর্ঘটনা কবলিত হয়। গাড়িতে ড্রাইভারসহ মোট ১৭ জন আরোহী ছিলেন বলে জানা গেছে। ১১ জন নিহত হবার খবর নিশ্চিত করেছে সাগরা জেনারেল হাসপাতাল।

গাড়িতে থাকা আরও ৪ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন । ২ জন আশঙ্কামুক্ত থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে ।

মৃত ১১ জনের নাম ঠিকানা এখনও পাওয়া যায়নি । এদের মধ্যে কয়েকজন নতুন লোকও ছিলেন বলে জানা গেছে।

ফেনীতে সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুশয্যায় ৬ মাসের গর্ভবতী নারী

ফেনীতে সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুশয্যায়
৬ মাসের গর্ভবতী নারী
উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানি…………………….
ফেনীতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ৬ মাসের গর্ভবতী মহিলাকে মারধরের পর বর্তমানে সে মারাত্বক আহত অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

ভিকটিম, তার স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ফেনী পৌরসভার মধুপুর গ্রামের ১৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রীকে রুবি আক্তার (৩১) তার স্বামীর বসতবাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিল।

স্বামী প্রবাসে থাকার কারণে আসামীরা বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে রুবির উপর চড়াও হতো।
সর্বশেষ ঘটনার দিন গত ২৩ এপ্রিল দুপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের রাবেয়া আক্তার (৩২) ও মো. শরীফ ভিকটিমের উপর হামলা চালায়।

এসময় তারা ভিকটিমকে ব্যাপক মারধর, কিল,ঘুষি ও লাথি মেরে মারাত্বক আহত করে। প্রতিপক্ষের এ দুজন ভিকটিমের গর্ভে থাকা ৬ মাসের সন্তানটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে তলপেট লক্ষ্য করে সজোরে কয়েকবার লাথি মারে। তাদের প্রচন্ড মারধরে রুবি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারায়। এসময় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্বজনরা রুবিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য আনতে গেলে প্রতিপক্ষের রাবেয়া আক্তার ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের তাড়া করে। এ ঘটনা স্থানীয় অনেকেই দেখেছে।

একপর্যায়ে এলাকার লোকজনের সহায়তায় রুবিকে তার স্বজনরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, রুবির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তার গর্ভের সন্তানও শঙ্কামুক্ত নয়। এদিকে রুবির মামা আসিফ চৌধুরী তার ভাগ্নির উপর এমন বর্বরতার প্রতিকার চেয়ে রাবেয়া আক্তার ও মো. শরীফকে আসামী করে থানায় মামলা করলে তারাও কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে পাল্টা মামলা দায়ের করে। আবার রুবির স্বজনদেরও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হবে বলে হুমকি দেয়।

এমতাবস্থায় রুবি ও তার স্বজনরা সীমাহীন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ বিষয়ে জানতে প্রতিপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি ।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এক নারী মেম্বারকে ধর্ষণ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এক নারী মেম্বারকে ধর্ষণ ঘটনায় চেয়ারম্যান-মেম্বারকে আটক করেছে এলাকাবাসী। ঘটনার পর এলাকাবাসী চেয়ারম্যান জানাত আলী ও মেম্বার আলাল উদ্দিনকে পুলিশে সোপর্দ করে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদের লাইব্রেরিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দুপুরে হঠাৎ উপজেলার ১নং বাজুবাঘা ইউনিয়ন পরিষদ কক্ষের লাইব্রেরিতে দরজা-জানালা বন্ধ দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে তারা একজোট হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে রাখে। এরপর থানা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ওই পরিষদের লাইব্রেরি কক্ষ থেকে ভিকটিম নারী মেম্বার ও পুরুষ মেম্বার আলাল উদ্দিনকে হাতেনাতে ধরে থানায় নিয়ে আসে। আলাল উদ্দিন ওই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য।

ধর্ষণের শিকার নারী মেম্বার পুলিশকে জানিয়েছেন, দুপুরে অন্যদের সঙ্গে তিনিও বাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নেন। এসময় মেম্বার আলাল উদ্দিন তাকে জানান, চেয়ারম্যানের সঙ্গে জরুরি কথা আছে। এই বলে লাইব্রেরির কক্ষে নিয়ে যান।

কথামতো তিনি ওই মেম্বারের সঙ্গে লাইব্রেরিতে প্রবেশ করলে দরজা-জানালা বন্ধ করে কুপ্রস্তাব দেন মেম্বার আলাউদ্দিন। একপর্যায়ে প্রকল্প পাইয়ে দেয়ার নামে তাকে ধর্ষণ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী যুবক রহিদুল ইসলাম জানান, বেলা ২টায় পরিষদ চত্বরে তেমন একটা লোকজন ছিল না। মেম্বার আলাল উদ্দিনের এদিক-ওদিক তাকানো দেখে সন্দেহ হচ্ছিল। তাই পরিষদের পেছনে অবস্থান নিয়ে ছিলাম। এরপর যখন তারা দুজন একটি কক্ষে অবস্থান নেন তখন অন্য লোকদের ডাকাসহ থানা পুলিশে খবর দেয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় ওই লাইব্রেরির দরজায় তালাবদ্ধ ছিল এবং সেই তালার চাবি ছিল চেয়ারম্যানের কাছে। এ থেকে তারা চেয়ারম্যানকেও সন্দেহের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী ওই পরিষদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আয়েশা জানান, তিনি ওই সময় বারান্দা ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। লোকজনের চিৎকার দেখে লাইব্রেরির সামনে যান এবং দরজার ফাঁক দিয়ে দুজনকে ভেতরে দেখে তিনি চেয়ারম্যানের কাছে যান।

বাঘা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মাহামুদ জানান, তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করেছেন। এ বিষয়ে নারী মেম্বার নিজে বাদী হয়ে বিকেলে একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। মামলার পর ভিকটিমকে মেডিকেল টেস্টের জন্য রামেক হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে।

বাতসিরি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে।

দাগনভূঞা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি জয়নাল আবদীন মামুনের সাথে কক্সবাজার বেড়াতে না যাওয়ায় বাতসিরি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরী ও তার অভিভাবক স্কুলের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন বিচার না পেয়ে গতকাল সোমবার সকালে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে।

জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে ওই ছাত্রী অভিযোগ করে বলে, আওয়ামীলীগ নেতা জয়নাল আবদীন মামুনের শ্যালক সাব্বির ও তার সহযোগিরা অস্ত্র ঠেকিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে জোর করে রাস্তা থেকে সিএনজি অটোরিক্সা যোগে তুলে নিয়ে দাগনভুঞা নিকাহ্ রেজিষ্ট্রার কাজী এটিএম শরীফ উদ্দিন আল-হারুনীর অফিসে নিয়ে যায়।

এখানে ৭ লাখ টাকা দেন মোহর ধার্য করে ছাত্রীকে বিবাহ করে। পরে ঢাকা সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রায় এক মাস আটক রেখে জোর পূর্বক পাশবিক নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে রিক্সা চালক পিতা আবদুল বারিকের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা আদায় করে নেয়। ওই টাকা ফুরিয়ে যাওয়ার পর বিগত ঈদুল ফিতরের পূর্বে পুনরায় ছাত্রীটিকে সমাসপুর গ্রামে তার বাবার বাড়ীতে রেখে যায়। ঈদের পর ছুটি শেষে মেয়েটি স্কুলে গেলে কর্তৃপক্ষ তাকে ক্লাশ থেকে বের করে দেয়।

অসহায় মেয়েটি মা-বাবাকে নিয়ে স্কুল সভাপতি জয়নাল আবদিন মামুনের কাছে গেলে সে ও কমিটির অপর সদস্য মশিউর রহমান মিন্টু মেয়েটিকে তাদের সাথে গোপনে কক্সবাজার বেড়াতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব প্রত্যখ্যান করায় তারা মেয়েটিকে নানাভাবে হেনস্থা করে। এ ব্যাপারে সে শিক্ষামন্ত্রী, সচিব, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ দিয়েছে।

পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি জেনে তিনি দাগনভুঞা থানা ওসি’র মাধ্যমে ওই ছাত্রীটিকে শনিবার স্কুলে পাঠিয়েছেন।

তবে নির্যাতিতা ছাত্রীটি সাংবাদিকদের জানান, মামুন ও তার সহযোগিদের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
জয়নাল আবদিন মামুন অভিযোগ প্রত্যাখান করে জানান, বরং ছাত্রীটিকে তিনি স্কুলে পড়াশোনার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। দলীয় অন্ত:কলহের জের ধরে যুবলীগের এক নেতা তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নুর উদ্দিন রুহুল আমিনসহ ১২ জন জড়ি

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল সিনিয়র মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আরো ১২ জন জড়িত রয়েছে বলে স্বীকার করেছে নুর উদ্দিন ও শামীম। রবিবার দুপুরে থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মামলার অন্যতম দুই আসামি নুর উদ্দিন ও শাহদাত হোসেন শামীম আদালতে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জড়িতদের নামও উল্লেখ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের নাম। আর সবাই ওই মাদরাসার আলিম ও ফাজিল শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এদিকে রবিবার( ১৫ এপ্রিল) দুপুর ২.৩০ মি. থেকে দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ধরে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন আসামি নুর উদ্দিন ও শামীমের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নুর উদ্দিন ও শামীম পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান (পিবিআই) জানান, নুর উদ্দিন ও শাহদাত হোসেন শামীম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অনেক তথ্য দিয়েছে। তারা হত্যাকাণ্ডের দায়ও স্বীকার করেছে। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার নির্দেশে তারা কীভাবে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে কী করেছে তা আদালতে বিস্তারিত বলেছে।

মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নুর উদ্দিন ও শাহদাত হোসেন শামীম আরো কিছু নাম বলেছে। আমরা তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করছি না। এসব তথ্য যাচাইবাছাই করে বাকিদেরও গ্রেফতার করার পর নাম প্রকাশ করা হবে।

এদিকে তদন্ত সূত্র জানায়, যৌন হয়রানির মামলায় অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ্দৌলা গ্রেফতার হওয়ার পর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি রুহুল আমিনের নির্দেশে নুর উদ্দিন ও শাহদাত হোসেন শামীম অধ্যক্ষ মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের খরচের জন্য পৌর কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুকসুদ আলম তাদেরকে ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিল। ওই মাদরাসার আরেক শিক্ষক নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য পাঁচ হাজার টাকা দেন।

সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া শাহদাত হোসেন শামীম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলে, নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর সে দৌড়ে নিচে নেমে উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যায়। বাইরে গিয়ে সে রুহুল আমিনকে ফোনে বিষয়টি জানায়। রুহুল আমিন বলে, আমি জানি। তোমরা চলে যাও।

শাহদাত হোসেন শামীম আরো জানায়, নুসরাতের দায়ের করা মামলার পর রুহুল আমিন থানা ম্যানেজ করার দায়িত্ব নিয়েছিল। রাফির প্রতি নিজের ক্ষোভ থাকার কথা উল্লেখ করে শাহদাত হোসেন শামীম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে, দেড় মাস আগেও সে নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নুসরাত তা প্রত্যাখান করার পাশাপাশি অপমানও করে। এ কারণে সে নিজেও নুসরাতের প্রতি ক্ষুদ্ধ ছিল। যার ফলে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার নির্দেশে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

অন্যদিকে আরেক আসামি নুর উদ্দিন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, তার সঙ্গে যৌন হয়রানকারী অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার ভালো সম্পর্ক ছিল। এ কারণে তার নির্দেশে তারা পরিকল্পনা করে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ঘটনার সময় সে ভবনের নিচে ছিল। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী উম্মে সুলতানা পপি গিয়ে নুসরাতকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। ওই সময় ছাদে কামরুন নাহার মণি ছিল।

নুর উদ্দিন আরো জানায়, সিরাজ উদ্দৌলা নানা সময়ে ছাত্রীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের যৌন হয়রানি করতো এবং বিভিন্ন সময় ছাত্রদের সাথে সমকামিতা লিপ্ত হতো।

বখাটেদের নিপীড়নে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

বরিশাল, ১৪ এপ্রিল- বরিশালের মুলাদীতে বখাটেদের নিপীড়ন ও উৎপাত সহ্য করতে না পেরে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছে এক মেধাবী স্কুলছাত্রী। তার নাম লিয়া আক্তার। উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের আলিমাবাদ রামচর গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম সরদারের মেয়ে। স্থানীয় এবিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

ছাত্রীর মা মাহফুজা বেগম জানান, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে আলিমাবাদ গ্রামের মোসলেম সরদারের পুত্র রোমান ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে লিয়াকে কু-প্রস্তাবসহ বিভিন্নভাবে নিপীড়ন করে আসছিলো। বখাটেরা প্রায়ই তাদের মোবাইল ফোনে লিয়ার সেঙ্গ কথা বলতে চাইতো। মাহফুজা বেগম তাদের ফোন করতে নিষেধ করলে বখাটেরা তাকে ও তার মেয়েকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতো।

বুধবার বিকালে লিয়া ঘরে এসে কান্নাকাটি করে। এ সময় কারণ জানতে চাইলে সে কোনো কথা বলেনি। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মাহফুজা বেগম পারিবারিক কাজের জন্য পাশ্ববর্তী বাড়িতে গিয়ে ফিরে এসে লিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময়ে তিনি লিয়ার পড়ার টেবিল থেকে আত্মহত্যার চিরকুট দেখতে পান। চিরকুটের মাঝে লেখা ছিলো ‘আজকে আমাকে একজনে একটা খারাপ কথা বলেছে, শুধু আমাকেই নয়, আমার আপুকেও বলেছে। কথাটা মিথ্যা তাই মানতে পারি না। তাই আমি পৃথিবী থেকে অনেক দূরে চলে গেলাম। আমার মৃত্যুর জন্য কেহ দায়ি নহে।’

অপরদিকে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, লিয়ার চাচাতো ভাই বিপ্লব সরদার দীর্ঘ দিন ধরে লিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। কিন্তু লিয়া কিছুতেই বিয়েতে রাজি হচ্ছিলো না। লিয়ার ঝুলন্ত লাশ পাওয়ার পর থেকে বিপ্লব আত্মগোপন করায় তাকে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মুলাদী থানার ওসি জিয়াউল আহসান বলেন, ‘স্কুলছাত্রীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে রোমনকে আটক করা হয়েছিলো। জিজ্ঞাসাবাদে লিয়ার মৃত্যুর সেঙ্গ রোমানের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন রামচর গ্রামের রাজ্জাক সরদারের পুত্র বিপ্লবকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাকে আটক করলেই অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। এছাড়া ময়না তদন্তের আগে লিয়ার মৃত্যু বিষয়টিকে হত্যা সন্দেহে তদন্ত করা হবে।’

নুসরাত জাহানের ধর্ষন কারির ও ফাঁসি হবে না

১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাসরঘর সাজিয়ে প্রতিরাতে একজন ছাত্রীকে ধর্ষন করা হতো,
এভাবে একশত ধর্ষন করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে
মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস করেছিলো ক্ষমতাসীন
দলের সোনার ছেলে “জসিমউদদীন মানিক” এরও
একটা বিচার হয়েছিলো, তবে ফাঁসি হয় নি।
.
দিবালোকে রামদা দিয়ে রাস্তায় প্রকাশ্যে খাদিজাকে
কুপিয়ে তার মাথা কয়েকভাগ করে সিলেটের বদরুল,
খাজিদার ভাগ্যভালো মরতে মরতে বেঁচে গেছে।
বদরুলেরও একটা বিচার হয়ছে, তবে খুব বেশি হয় নি।
.
২০১৮ সালে বরিশালের বানারিপাড়ায় গৃহবধূকে
ধর্ষনের পর মাথা নেড়ি করে দেয় প্রভাবশালী
নেতা সুমন, সুমনেরও একটা বিচার হয়ছে, তবে ফাঁসি
হয় নি।
.
সংরক্ষিত এলাকা কুমিল্লা ক্যান্টেরমেন্ট এর ভিতরে
তনুকে ধর্ষন করার পর হত্যা করা হয়, কে বা কারা
জড়িত তা কিন্তু গুয়েন্দা বাহিনী ভালো করেই জানে,
কিন্তু তনুর ধর্ষনকারী কেউ গ্রেফতার হয় নি,
.
৩১শে ডিসেম্বর ২০১৮ নোয়াখালীর সুবর্ণচরে দিনের
বেলা যুবতি মেয়ের সামনে তার মাকে দলবেঁধে ধর্ষণ
করার পর প্রহার করা হয়, ১৭ কোটি মানুষ এর সাক্ষী,
ধর্ষক রুহুল আমীনের ফাঁসির দাবি উঠলেও,
ফাঁসি কিন্তু হয় নি।
.
কিছুদিন আগে ঢাকার এক আবাসিক এলাকায়
৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করার পর শ্বাসরুদ্ধ করে
হত্যা করা হয়, ধর্ষক আটক, তবে তারও কিন্তু ফাঁসি
হবে না।
.
গত কয়েকবছর আগে দেখলাম ৩ বছরের শিশুর
যৌনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে ধর্ষন করে হত্যা করা হয়,
সেই ধর্ষকও গ্রেফতার হয়ছে, তবে ফাঁসি কিন্তু হয় নি।
.
এভাবে আরো কতো ধর্ষিত হচ্ছে মা বোনেরা তার
হিসাব রাখে কে? ধর্ষকরা জেলে যায় ঠিকিই,
কিন্তু ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে আবার বেরিয়ে আসে।
.
আমরা ধর্ষকের ফাঁসি চাই সবাই, কিন্তু দেশে কি সেই
আইন আছে?
ধর্ষকের শাস্তি জনসম্মুখে মৃত্যুদন্ড মাত্র তিন চারটা দিয়ে দেখুন, ধর্ষনতো দূরের কথা, কোনো মায়ের দিকে
চোখ তোলে থাকানোর সাহস পাবে না।

হাইরে দেশ ৩৯ লাখ টাকার ব্রিজ ব্যবহার করে একটি পরিবার!

শরীয়তপুর, ১২ এপ্রিল- শরীয়তপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক জগদীশ বিশ্বাস। বাস করেন উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর হিন্দু পাড়া গ্রামে। তার বাড়িটি যেখানে অবস্থিত সেখানে রয়েছে একটি ব্রিজ। যা নির্মাণ করা হয়েছে সরকারি অর্থ দিয়ে। ব্রিজটিতে রয়েছে একটি লোহার গেট, যা তালাবদ্ধ থাকে। যাতে করে ওই বাড়িতে বহিরাগত এবং গবাদী পশু ঢুকতে না পারে।

বিষয়টি নজরে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া সৈয়দ অনিক নামে এক ব্যবহারকারীর পোস্ট থেকে। পোস্টটিতে তিনি লেখেন, ‘শরীয়তপুরের সম্মানিত জেলা প্রশাসক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং সিনিয়র নেতাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুধু মাত্র একটি পরিবারের সুবিধার কথা ভেবে সরকার ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ৭৭৫ টাকা ব্যয়ে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণ করেছে। ওই পরিবার ব্যতীত অন্য কেউ যেন সেতুটি ব্যবহার করতে না পারে তার জন্য সেতুটির উপর নির্মাণ করা হয়েছে লোহার গেইট। বড়ই ভাবনার বিষয়!’

তিনি আরও লেখেন, ‘কে এই ভদ্রলোক যার একার সুবিধার জন্য এতোগুলো টাকা খরচ করে সরকার এই সেতু নির্মাণ করে দিলেন। আবার সেই সেতুটি সাবেক সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হক এসে উদ্বোধন করে দিলেন। জানি না সে কোন ভদ্রলোক। শুধু জানতে চাই এই টাকাগুলো কাদের? এই টাকাগুলো তো আমাদের ঘাম ঝড়ানো টাকা, দেশের সম্পদ। তাহলে কেন এইভাবে অপচয় করা হয়েছে। দয়া করে যারা দায়িত্বে আছেন এই বিষয়টা নিয়ে একটু ভাববেন আশা করি। ছোট মুখে বড় কথা লেখার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

ফেসবুকে পোস্টটি দেখার পর সরেজমিনে চিতলিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর হিন্দু পাড়া গ্রামে গিয়ে এর সত্যতা মেলে। দেখা গেছে, পল্লী চিকিৎসক জগদীশ বিশ্বাসের বাড়িতে প্রবেশের জন্য খালের উপর নির্মাণ করা হয়েছে ব্রিজটি। এটির পাশে কোনো রাস্তা নেই। ব্রিজের শেষ ভাগে (জগদীশের বাড়িতে ঢোকার প্রান্তে) একটি লোহার গেট রয়েছে।

জানা গেছে, কোনো বহিরাগত এবং গবাদী পশু যাতে বাড়িতে ঢুকতে না পারে, তাই গেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। জগদীশ বিশ্বাসের বাড়ির ব্রিজ দিয়ে অন্য কোনো বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ নেই। একক ব্যবহারের জন্যই নির্মাণ করা হয়েছে ব্রীজটি।

অবশ্য ব্রিজটির ৫০০ গজের মধ্যে আরও দুটি ব্রিজ রয়েছে। যা দিয়ে এলাকার জনসাধারণ যাতায়াত করে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, জগদীশ বিশ্বাসের ছেলে দুলাল বিশ্বাস সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিএম মোজাম্মেল হকের এপিএসর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হক ছোটবেলা থেকে আমার বাবার কাছে চিকিৎসা নিতেন। বাবা এমপি সাহেবের পারিবারিক ডাক্তার ছিলেন। এমপি সাহেব আমার বাবাকে অনেক ভালোবাসতেন। তাই সাবেক এমপি সাহেব তার বিশেষ বরাদ্দ থেকে এই ব্রিজটি নির্মাণ করেছেন।’

এ বিষয়ে চিতলিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আকুল কুমার মণ্ডল বলেন, ‘এই ব্রিজটি নির্মাণের জন্য সাবেক এমপি বিএম মোজাম্মেল হক তার বিশেষ বরাদ্দ থেকে অর্থ দিয়েছে। ব্রিজের উপর গেট লাগানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চুরি ডাকাতি ঠেকাতে এবং গরু-ছাগল যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য লোহার গেটটি দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুর রহমান শেখ বলেন, ‘এই মাত্র ঘটনাটি শুনলাম। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হকের মুঠোফোনে বারবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

দেশের সূর্য সন্তানেরা একদিন এই দেশকে আলোকিত করবে এই দেশের সূর্যসন্তান সোহেল রানা আমাদের গর্ব।

আমাদের সোহেল রানা ভাই কেন ফেনী তে থাকতে পারেনি তার কিছু লেখা তিনি তুলে ধরলেন ফেসবুকে

দিনে দুপুরে ছিনতাই হয়েছে বিজয়সিং দিঘীতে৷ ছিনতাইয়ের শিকার যুবকের করা মামলা নেয়নি ওসি রাশেদ চৌধুরী। মামলা নিতে চাপ প্রয়োগ করতে হয়েছে। তারপরও নেয়নি মামলা।

এরপর, অন্তত ১০ টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আমি থানায় পাঠিয়েছি ভিকটিমদের। ওসি মামলা নেয় নাই। জিডি করতে বাধ্য হয়েছে ভিকটিমেরা। আমার জিজ্ঞাসা কেন মামলা নেয়নি ওসি? ছিনতাইয়ের কি জিডি হয়?

ফেনীতে দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে জায়গা দখল করেছে এক কাউন্সিলর, অন্যখানে আর একজন প্রভাবশালী নেতা। তাকে জায়গা দখলে সুরক্ষা দিয়েছে স্বয়ং সদর থানার ওসি। আমি বাধা দিতে চেয়েছি, আমাকে থামানো হয়েছে। কে থামাতে চেয়েছে সেটা আর না-ই বললাম।

ফেনী শহরজুড়ে অনেকগুলো পতিতালয় আছে৷ যেখানে মানুষকে নিয়ে ভিকটিম বানিয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এবং তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে টাকা উদ্ধার করা হয়। এরকম ঘটনা আমার কাছে এসেছে অসংখ্য। এসব পতিতালয়ের নিয়ন্ত্রক কারা?

প্রকাশ্যে জনিকে অস্ত্রসহ ধরার পর পুলিশকে আসতে বলি স্পটে। সেখানে পুলিশ আসে এবং আমাকে সাহায্য করে। আমি পুলিশকে অস্ত্র আইনে মামলা করতে বলি, পুলিশ মামলা করতে অপারগতা জানায়। কেন? আমাক পুলিশ এও বলে যে আমি ধরেছি আমাকেই মামলা করতে হবে। অথচ পুলিশ আমার সাথেই ছিলো। হাস্যকর না!

ফেনীর এক চেয়ারম্যান আমাকে চোরাচালানের তথ্য দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক বড় নেতা থেকে শুরু করে সিন্ডিকেটের সবাই তাকে শাসিয়েছে। ডিবির এএসপি আমিনুল তাকে বলেছে সে কিভাবে নির্বাচন করে সেটা সে দেখে নিবে।

ফেনীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষি জমির মাটি কাটা নিয়ে শুরু করে, মাদক, স্বর্ণ চোরাচালান প্রায় প্রতিটি বিষয়ে যতটা না অপরাধীদের সাথে তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি আমাকে যুদ্ধ করতে হয়েছে এই সিন্ডিকেটের সাথে। ফেনীর বালুমহাল নিয়ন্ত্রকদের শাস্তি প্রদানে কাজ করতে পারিনি আমি। একটা বছর ধরে পুরো সিন্ডিকেট মিলে আমাকে পদে পদে বাধা প্রদান করেছে। নির্বাচনে আমার গাড়ি থেকে প্রটেকশন উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সারারাত জেগে আমার পরিবারকে পাহাড়া দিতে হয়েছে।

এই শহরের প্রতিটি ইঞ্চি আমি চিনি। শহরের প্রতিটি ইটের ভাষাও আমি জানি। সংগ্রামটা অবিশ্বাস্য হলেও শুধু আমার একারই ছিলো, আমি ভয়ানক একাই ছিলাম। শুধু আমার দুএকজন বস আর ফেনীর সাধারণ মানুষ ছিলো সাথে। তাদের কারণেই এক ইঞ্চি মাঠও ছাড়ি নাই। তবে অনেক সময়ই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারি না, থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য নিজেকে প্রায়ই অপরাধী মনে হয়।

পুরো প্রশাসন হয় উদাসীন, নয় অপরাধের সাথে জড়িত, সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত, অন্যায়ের সাথে, দুর্নীতির সাথে জড়িত। ঔদাসীন্যও এক ধরণের অপরাধ। এদের মুখে বঙ্গবন্ধুর কথা শুনলে আমার থুতু দিতে ইচ্ছে হত। এগুলো কিছুই সাংবাদিকরা লেখেনি। আমি লিখতে বলেছি, এরা ভয়ে লেখে নাই।

রয়েছে এমন শত শত ঘটনা। এসব ঘটনা বলার কারণ, এগুলো অন্যায়, ভয়াবহ অন্যায়। এই সমাজ এই অন্যায়গুলোর ধারক ও বাহক। এদের কাছে আপনি কিভাবে নুসরাত হত্যার বিচার পাবেন?

স্বেচ্ছায় বিদেশে এসেছি পড়তে, দেশে ফিরব পড়াশোনা করে। সরকার চাইলে কাজ করব, নাহলে চাকরি ছেড়ে দিব। প্রত্যয় এটুকুই- যুদ্ধের জীবন চলছে, চলবে।

লিখক- সোহেল রানা

গ্রিন লাইন পরিবহনকে বেলা তিনটার মধ্যেই পা হারানো রাসেলকে ‘কিছু টাকা’ দেওয়ার নির্দেশ

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো রাসেল সরকারকে আজ [বুধবার] কিছু টাকা দেওয়ার জন্য গ্রিন লাইন পরিবহনকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

গত বছর এপ্রিলে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাস চাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে তার ক্ষতিপূরণের টাকার একটি অংশ আজই বিকেল তিনটার মধ্যে পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে।

রাসেল সরকারের আইনজীবী উম্মে কুলসুম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পরিবহন মালিক কর্তৃপক্ষ টাকা পরিশোধের জন্য এক মাসের সময় চেয়ে আজ আবেদন করেছিলেন।

“কোর্ট বলেছে, আজ তিনটার মধ্যে কিছু টাকা জমা দিন। পরে সময় নিয়ে কথা বলা হবে।”

এর আগে গত ১২ই মার্চ হাইকোর্ট দু’সপ্তাহের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা রাসেল সরকারকে দেওয়ার জন্য গ্রিন লাইন পরিবহনকে নির্দেশ দিয়েছিলো।

এর বিরুদ্ধে আপিল করলেও তাতে কোম্পানিটির পক্ষে কোনো আদেশ আসেনি।

বরং এরপর হাইকোর্ট টাকা পরিশোধের জন্য ১০ই এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়।

তখন হাইকোর্ট বলেছিলো, এ সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে কোম্পানিটির সব বাস জব্দ করা হবে।

এরমধ্যে মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি মামলায় পক্ষভুক্ত হতে আদালতে আবেদন করে বলে জানিয়েছেন মিজ. কুলসুম।

আজ টাকা পরিশোধের সময়সীমার শেষ দিনে গ্রিন লাইনের পক্ষ থেকে এক মাসের সময় চেয়ে আবেদন করলে হাইকোর্ট বেলা তিনটার মধ্যে কিছু টাকা পরিশোধের আদেশ দেয়।

বেলা তিনটায় এ বিষয়ে আরও আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।