সৌইদিতে বন্যায় ডুবে গেছে মদিনার রাস্তা, বন্ধ স্কুল

সৌদি আরবে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ব্যাপক বন্যায় ভেসে গেছে মদিনার রাস্তা। শহরের বড় বড় রাস্তা ও স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া এসব অঞ্চল থেকে প্রায় কয়েক ডজন বন্যকবলিত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে আরব নিউজ। এতে বলা হয়েছে, মদিনার প্রধান রিং রোডগুলোর একটি রোডের শাখাগুলো পানিতে ভেসে গেছে। এর ফলে কার ও মোটরসাইকেল চালকদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

দেশটির সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা তাবুক ও আল-জউফ থেকে ৬৫ জন এবং দুবার পশ্চিমাঞ্চল থেকে ৩৭ জন বন্যাকবলিত মানুষকে উদ্ধার করেছে। তাবুক, আরার ও আল-জউফের স্কুলগুলো সোমবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মেজর মোহাম্মেদ আল-হাম্মাদি আরব নিউজকে বলেন, রিয়াদ, মক্কা, নর্দার্ন বর্ডার রিজিওন, হাইল, তাবুক, কাসিম, মদিনা, ইস্টার্ন প্রভিন্স, আসির, জাজান এবং আল-জউফের মানুষ অস্থিতিশীল আবহাওয়া মোকাবেলা করছে।

সিভিল ডিফেন্সের জেনারেল ডিরেক্টোরেট নাগরিক ও বাসিন্দাদেরকে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে উপত্যকা বা বিপজ্জনক অঞ্চলে গিয়ে নিজেদের জীবন ঝুঁকির মুখে না ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশটির ‘জেনারেল অথরিটি ফর মেটিওরোলজি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন’ জানিয়েছে মঙ্গলবার পর্যন্ত আবহাওয়ার এই অবস্থা অব্যাহত থাকবে। শীতল তাপমাত্রা এবং তীব্র ঝড়সহ বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা আছে। রিয়াদ ও ইস্টার্ন প্রভিন্সে ধূলিঝড়েরও সম্ভাবনা আছে।

কর্মক্ষেত্রে ডাক্তারকে পাওয়া না গেলে সঙ্গে সঙ্গে ওএসডি করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কর্মক্ষেত্রে ডাক্তারকে পাওয়া না গেলে সঙ্গে সঙ্গে ওএসডি করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সকাল ১০টায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালে ডাক্তাদের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করুন। কর্মক্ষেত্রে ডাক্তারকে পাওয়া না গেলে সঙ্গে সঙ্গে ওএসডি করতে হবে। আমার নির্দেশ, আজ থেকে যে হাসপাতালে যে ডাক্তারকে পাওয়া যাবে না সঙ্গে সঙ্গে তাকে ওএসডি করতে হবে। পরেটা পরে দেখা যাবে।

তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করুন। চিকিৎসকদের ইন্টার্নশিপ এখন থেকে দুই বছর করতে হবে। এরমধ্যে এক বছর অবশ্যই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি করতে হবে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর নজরদারি করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বিভাগীয় শহরগুলোতে বড় হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে, যাতে রাজধানীতে রোগীর চাপ কম পড়ে। রাজধানীর সেবা যেন তারা ওইসব হাসপাতালে পায় তেমন করে গড়ে তুলতে হবে।

শুধু ওষুধ খাওয়ানো নার্সদের কাজ নয়, রোগীকে প্রকৃত সেবা দিতে হবে। সঠিক দায়িত্ব পালন না করলে নার্সদেরও সঙ্গে সঙ্গে অব্যাহতি দিন। রোগীর সেবা করাই ডাক্তার ও নার্সদের মূল কাজ। এটি করতে না পারলে এই পেশায় থাকার দরকার নেই।’

সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রাখাইনে সেনাবাহিনীর সাথে আরাকান আর্মির তুমুল সংঘর্ষ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর সাথে সশস্ত্র বৌদ্ধ বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান আর্মির তুমুল সংঘর্ষ অব্যাহত আছে। গত শনিবার রাচিডং জেলার রেঙগুনদাইং পার্বত্য এলাকায় গেরিলা হামলা চালিয়েছে আরাকান আর্মির বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

এ সময় ব্যাপক গোলাগুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে রোহিঙ্গা পল্লীর বাসিন্দারা গ্রামের বাইরে চলে যায়। গেল সপ্তাহে শান স্টেটের পাল্লোয়া এলাকায় মিয়ানমারের বাহিনী হেলিকপ্টার হামলা চালায়। এতে বেসামরিক লোকজন হতাহত হন।

গত ৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে উভয়গ্রুপের অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছে। সংঘর্ষে নিরীহ রোহিঙ্গা মুসলিমসহ বেসামরিক লোকজনও নিহত হয়েছে।রোহিঙ্গাদের সূত্র জানিয়েছে, রাখাইনের মংডু, বুচিডং এবং রাচিডং এলাকায় আরাকান আর্মি সক্রিয় রয়েছে। এলাকাগুলোতে অবস্থা বুঝে মিয়ানমারের বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে আরাকান আর্মি।

এর আগে বুচিডংয়ে আরাকান আর্মির একটি অস্থায়ী ঘাঁটি দখলে নেয় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এ সময় পাঁচজন আরাকান আর্মি সদস্য নিহত হন এবং ঘাঁটি থেকে ব্যাপক গোলাবারুদ উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। এতে রাজ্যজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি ফেলে পালিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।স্থানীয়রা জানান, এসব এলাকায় প্রায় ৮ হাজার রোহিঙ্গা ও কয়েক ডজন রাখাইন জনগোষ্ঠীর বাড়িঘর রয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্টে রাজ্যে সেনাবাহিনী যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, সে সময় এ গ্রামটি রক্ষা পেয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত ৪ জানুয়ারি মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবসে আরাকান আর্মি বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বর্ডার গার্ড পুলিশের চারটি পোস্টে একযোগে হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করে। ওই ঘটনার পর থেকে রাখাইনে আরাকান আর্মির সাথে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। বিদ্রোহীদের দমন করতে রাষ্ট্রীয় ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

ফেনীতে নিখোঁজের পরদিন মাটিচাপা অবস্থায় কিশোরের লাশ উদ্ধার

ফেনীতে নিখোঁজ কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে শহরের পাঠানবাড়ী এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করেছে। সোমবার দুপুরে মাটিকে পোঁতা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, রোববার রাত নয়টার দিকে আরাফাত হোসেন (১২) শহরের পাঠানবাড়ী এলাকার মোমিন জাহান মসজিদ সংলগ্ন বাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে স্বজনরা পুলিশকে খবর দেয়।

পরে সোমবার দুপুরে একই এলাকার নির্মাণাধীন একটি বাসার পাশে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে।

নিহত আরাফাত শহরের পুলিশ লাইনস স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ও প্রবাসী জসিম উদ্দিনের ছেলে।

এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ আধুনিক ফেনী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

চা বিক্রেতা এবং আইসক্রিমওয়ালার ২ ছেলেকে বেছে নিয়েছেন আকাশ

ফেসবুকের নিউজ ফীডে ক্রল করতে গিয়ে পোস্টারটা চোখে পড়লো। মনে হলো বিজ্ঞপনদাতাকে একটা কল করা যাক। তিনি কি তার কাঙ্খিত দুইজন ছাত্র-ছাত্রী পেয়েছেন কিনা?

কল রিসিভ করলেন আকাশ। পরিচয় দিয়ে জানতে চাইলাম, ;কেমন আছেন? আপনার কাঙ্খিত ছাত্র-ছাত্রীদের পেয়েছেন কি?’ ‘জ্বি ভাই, পেয়েছি’ বলে জানালেন তিনি। এরপর কথা হলো বেশ কিছুক্ষণ। জানালেন তার এই উদ্যোগের বিষয়ে।

আবীর হাসান আকাশ ঢাকা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। সদ্য ২য় বর্ষ থেকে ৩য় বর্ষে উন্নীত হয়েছেন। এখনও ক্লাস শুরু হয়নি। ক্লাস যখন থাকে, তখনও দুপুরের পরে অবসর থাকেন। ব্যবসায়ী বাবার ছেলে আকাশের পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতাও আছে। ফলে অন্য আরও অনেক শিক্ষার্থীর মতো তাকে নিজের চলার খরচ জোগানোর জন্য টিউশনি করতে হয় না। দুপুর থেকে বিকালের সময়টাকে ফলপ্রসূভাবে কাটানোর চিন্তা থেকেই তার মাথায় এলো টিউশনি করানো যায়।

যে ভাবনা সেই সিদ্ধান্ত। তবে ব্যতিক্রম হলো, টিউশনি পড়ানারো বিনিময়ে তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেবেন না। আর যেহেতু পারিশ্রমিক নেবেন না, তাহলে যাদেরকে পড়াবেন তারা যদি গরীব ঘরের সন্তান হন তাহলে সবচেয়ে ভালো।

ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে দেয়ালে ঝুলতে দেখা যায়, শত শত পোস্টার। ‘পড়াতে চাই’, ‘ছাত্রছাত্রী চাই’ ইত্যাদি। আকাশও চিন্তা করলেন কয়েকটা পোস্টার লাগাবেন। ঢাকা কলেজের আশপাশের এলাকায় কয়েকটি স্থানে লাগালেন এই পোস্টার। “দরিদ্র ও মেধাবী দুই জন ছাত্র/ছাত্রীকে পড়াতে চাই”। সাথে বক্সে বড় করে লিখে দিলেন “বিনা পারিশ্রমিকে”।

এই শব্দ দুটিই আকাশের পোস্টারকে অন্যসব পোস্টার থেকে আলাদা করে দিলো। শিক্ষক খুঁজতে থাকা মানুষদের আগ্রহ হলো এই হবু শিক্ষককে নিয়ে। যারা শিক্ষক খুঁজছেন না, তারও দৃষ্টি আকৃষ্ট হলো এতে।

আকাশ জানালেন, দুই সপ্তাহ আগে লাগিয়েছিলেন পোস্টার। এরপর থেকে ফোন কলে অতিষ্ঠ হওয়ার উপক্রম তার! ঢাকার নানা প্রান্ত থেকে কল এসেছে। তাদের সন্তানকে যদি পড়াতেন তিনি। ঢাকা কলেজের দক্ষিণ হোস্টেলে থাকা এই ছাত্র জানালেন, উত্তরা, মিরপুর মোহাম্মদপুর এসব দূরের এলাকা থেকেও কল পেয়েছেন।

কিন্তু হোস্টেল থেকে বেশি দূরে কোথাও ক্লাস নিতে গেলে ঢাকার জ্যামে তার দিন চলে যাবে। এ কারণে ধানমণ্ডি, নিউ মার্কেট আর আজিমপুর থেকে পাওয়া কয়েকটি ফোন কলকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এরপর এক সপ্তাহে ১১/১২টি বাসায় গিয়েছেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল অপেক্ষাকৃত বেশি দরিদ্র এবং মেধাবী দুইজন শিক্ষার্থীকে বেছে নেয়া; যাতে তার পরিশ্রমটি সফল হয়।

অবশ্য ‘মেধাবী’ খুঁজতে গিয়ে অনেকের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন- ‘কম মেধাবীরা কি পড়াশোনা করবেন না? তাদেরকে উপেক্ষা করছেন কেন?’ আকাশ এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। তার মতে, ‘মেধাবী’ বলতে তিনি মনোযোগী শিক্ষার্থীদের বুঝিয়েছেন।

‘বছর শেষে যদি দেখা যায় যে, মনোযোগী না হওয়ার কারণে ছেলে বা মেয়েটির পেছনে আমার চেষ্টা বিফল হয়েছে তাহলে খারাপ লাগবে’, বললেন তিনি।

যাচাইবাছাই শেষে আজিমপুরের এক আইসক্রিম বিক্রেতার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া ছেলেকে এবং নিউ মার্কেটের পেছনের আইয়ুব আলী কলোনিতে থাকা এক চা বিক্রেতার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া ছেলেকে নিজের হবু ছাত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন আকাশ। তার কাছে মনে হয়েছে এই দুই বাবারই তাদের ছেলের চাহিদা অনুযায়ী পড়াশোনা করানোর সামর্থ্য নেই। তাই এদেরকে বেছে নেয়া।

ইতোমধ্যে বাসায় গিয়ে ছাত্রদের সাথে পরিচিত হয়ে এসেছেন। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সপ্তাহে ৩/৪ দিন করে একেকজনকে দুপুরের পরে সময় দেবেন বলে ঠিক করেছেন।

২০১৬-১৭ সেশনে ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়া আকাশের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে। বাবা-মায়ের পরিচয় প্রকাশে আগ্রহী নন তিনি। জানালেন, শুধু শিক্ষার্থী পড়ানোর উদ্যোগই নয়, তিনি নিয়মিত চেষ্টা করেন দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের নিজে থেকে সহায়তা করতে। এতিমদের জন্য কিছু করতে চান। কয়েকদিন আগে মাদ্রাসার এক এতিম ছাত্রকে একটা পাঞ্জাবি বানিয়ে দিয়েছেন।

আকাশের মা তাকে এমন কাজে উৎসাহ দেন। এবার শীত শুরু হওয়ার পর মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কলেজের পাশে ১০ জনকে শীতের কাপড় কিনে দিয়েছিলেন বলেও জানান। “আমার বন্ধুরা আমার এসব কাজের বিষয়ে জানে। তাই তারা কোথাও কোনো ছাত্রছাত্রী পেলে অনেক সময় আমার কাছে নিয়ে আসে। আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করি ওদেরকে কিছু দিতে। বই-গাইড এগুলো কিনে দেই”, বললেন তিনি।

কলেজেরর হলে নিজের রুমে তারা ছয়জন থাকেন। আকাশে ভাষ্য, “বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষার্থী পড়ানোর উদ্যোগটা নেয়ার পর তাদের কেউ কেউও এই চিন্তা করতেছে আমার মতো এভাবে পড়াবে।”

বাংলাদেশে কয়েক শ’ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা সৌদি আরবের

বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে কয়েক শ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। সংশ্লিষ্ট সৌদি সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য নিউ নেশন এ-সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে।

বলা হচ্ছে, বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে একটি উচ্চপর্যায়ের সৌদি প্রতিনিধিদল আগামী মাসে বাংলাদেশ সফর করবে।

দ্য নিউ নেশনে আজ শুক্রবার প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিনিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছে রিয়াদ। আগামী মাসে সৌদি আরবের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর করার কথা রয়েছে। ওই সফরে বাংলাদেশে বিনিয়োগের নানা সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে। সফর চলাকালীন সৌদি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও বাণিজ্য সংস্থার নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সৌদি সরকারি কর্মকর্তা নিউ নেশনকে জানিয়েছেন, সার, সিমেন্ট ও পাওয়ার প্ল্যান্ট খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী সৌদি আরব। সৌদি প্রতিনিধিদলটি প্রায় কয়েক শ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব উত্থাপন করবে। সার, সিমেন্ট ও জ্বালানি খাত বাদে অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পেও বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব।

সৌদি আরবের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা বাংলাদেশে এরই মধ্যে বিনিয়োগের জন্য কিছু খাত বাছাই করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ওষুধ শিল্প, পেট্রোকেমিক্যাল, টেলিকমিউনিকেশন, আইসিটি, জ্বালানি, অবকাঠামো নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প।

সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির ১০-১১ তারিখে বাংলাদেশ সফর করবে সৌদি প্রতিনিধিদল। এই দলে থাকবেন সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা এবং সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসডিএফ) ও পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) প্রতিনিধিরা।পিএ/

স্বামীর লাশ ওয়ারড্রবে রেখে অফিস করলেন স্ত্রী

স্বামীর পাশাপাশি চাকরি করতেন স্ত্রী জেবুন নাহারও। যা বেতন পেতেন তা থেকে প্রতিমাসে নিজের মা-বাবাকে কিছু টাকা দিতে চাইতেন তিনি। কিন্তু বাধ সাধেন স্বামী রফিকুল ইসলাম শেখ। শুধু বাধাই নয়, ওইসব ঘটনায় তাকে বিভিন্ন সময় মারধরও করেন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন জেবুন নাহার।

এক পর্যায়ে স্বামীর ওপর আক্রোশ জমে তার মনে। ফের ঝগড়া হলে সেই আক্রোশের বশবর্তী হয়ে স্বামীকে হত্যা করেন। এমনকি হত্যার পর স্বামীর মরদেহের ওপর ঠান্ডা মাথায় চালান নৃশংসতা।

শুক্ররাত রাতে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রোমহর্ষক ওই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন জেবুন নাহার। আজ শনিবার জেবুন নাহার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মোল্লা।

এসআই শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জেবুন নাহার জানিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার সকালে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয় তার (জেবুন)। ঝগড়ার এক পর্যায়ে ইট দিয়ে রফিকুলের মাথায় আঘাত করেন তিনি। এতে রফিকুল অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন রফিকুলকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহটি ঘরের ওয়ারড্রবের ভেতর রেখে কর্মস্থলে চলে যান। এ সময় তাদের মেয়েটি পাশেই জেবুন নাহারের ছোট বোনের বাসায় ছিল।

রাত ৮টার দিকে কর্মস্থল থেকে ফিরে ১১টা পর্যন্ত তিনি বোনের বাসায় ছিলেন। সেখানেই রাতের খাবার খান জেবুন। রাত ১১টার দিকে নিজের বাসায় গিয়ে রান্নাঘরের বটিতে শান দেন। এরপর ওয়ারড্রব থেকে স্বামীর মরদেহ বের করে প্রথমে দুই পা কাটেন। পরে দুই হাত কেটে মাথাও বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন।

৬ টুকরো করা মরদেহটি গুমের উদ্দেশ্যে একটি বস্তায় ভরে ফেলেন। পরে দুই হাত ও বিচ্ছিন্ন মাথা ময়লার ড্রামে ফেলেন। এরপর বাসা থেকে কয়েকশ গজ দূরে ময়লার ভাগাড়ে বস্তাবন্দি দেহটি ফেলে আসেন। এর প্রায় ৪০০ গজ দূরে শৌচাগারের পেছনে নিয়ে ফেলেন পায়ের দুটি টুকরো। শৌচাগারের পাশে দুই হাত ও খণ্ডিত মাথা রাখা ড্রামটিও ফেলে যান। সবশেষে ব্যবহৃত বটিটিও বাইরে লুকিয়ে রাখেন জেবুন নাহার।

এসআই শহিদুল ইসলাম মোল্লা বলেন, জেবুন নাহারের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রাতেই নৃশংসতায় ব্যবহৃত বটিটি জব্দ করা হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় রফিকুল ইসলামের বাবা আব্দুল লতিফ বাদী হয়ে জেবুন নাহারকে আসামি করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন।জেএন/

গাজীপুরে বস্তার ভেতর থেকে যুবকের ৬ টুকরা লাশ উদ্ধার

গাজীপুরে বস্তার ভেতর থেকে যুবকের ৬ টুকরা লাশ উদ্ধার

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌর এলাকার গিলারচালা গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের ময়লার স্তুপে পড়ে থাকা বস্তার ভেতর থেকে রফিকুল শেখ নামের (৩০) এক যুবকের ৬ টুকরা দেহ উদ্ধার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী জীবন নাহার ও তার এক স্বজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

নিহত যুবক ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার উলমাকান্দি গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে। সে শ্রীপুর পৌর এলাকার হাউ আর ইউ কারখানার শ্রমিক। নিহত রফিকুল স্ত্রীসহ স্থানীয় আব্দুল হাইয়ের বাড়িতে ভাড়া থাকত।

আজ শুক্রবার সকালে বাড়ির অন্য এক ভাড়াটিয়া বাড়ির পেছনে রক্তমাখা বস্তা দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ বিকেলে গিয়ে এ লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ির বাজারের পাশে গিলারচালা এলাকায় মেঘনা কম্পোজিট কারখানার সীমানা প্রাচীরের বাইরে আব্দুল হাইয়ের ভাড়াবাড়ির পেছনে একটি বাঁশঝাড়ে শুক্রবার সকালে রক্তমাখা বস্তা দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে বিকেল সাড়ে চার দিকে আশেপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই যুবকের লাশের টুকরো উদ্ধার করা হয়।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল বাহার বলেন, বাঁশঝাড়ে তার লাশের পাঁচ টুকরা বস্তায় ভরা ছিল, এর চারশ গজ দূরে এক পায়ের খন্ডিত অংশ পড়ে ছিল। পরে খন্ডিত লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ইটভাটার মেসে কয়লাবাহী ট্রাক উল্টে অন্তত ১৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ইটভাটার মেসে কয়লাবাহী ট্রাক উল্টে অন্তত ১৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দু’জন। হতাহত সবাই স্থানীয় কাজী অ্যান্ড কোং নামে একটি ইট ভাটার শ্রমিক। তারা সবাই মেসে ঘুমিয়ে ছিলেন।

আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।চৌদ্দগ্রাম থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইনজামামুল হক জানান, নারায়ণপুর গ্রামের একটি সড়কে কয়লাবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইটভাটার শ্রমিকদের মেসের উপর উল্টে পড়ে। এতে ঘুমিয়ে থাকা শ্রমিকদের ১২ জন ঘটনাস্থলে মারা যান।

আহত আরও তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে একজনকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবুল ফজল মীর বলেন, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক উল্টে নিহত ১৩ জনই পুরুষ। নিহতদের গ্রামের বাড়ি রংপুরে বলে জানা গেছে।

তবে তাৎক্ষণিক হতাহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি বলেও জানান ডিসি।

ইয়াবা পাচারকালে প্রেমিকসহ সাবেক বিমানবালা আটক

চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচারকালে সাবেক এক বিমানবালা ও তার প্রেমিককে আটক করেছে র‌্যাব।

আটকরা হলেন- রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের সাবেক বিমানবালা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলার মো. আল আমিন সরকারের মেয়ে স্মৃতি আক্তার (২৪) এবং তার প্রেমিক কক্সবাজার সদরের মো. মনির আহমদের ছেলে মো. জুবাইর উদ্দিন (৩২)।

র‌্যাবের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, সোমবার (২১ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর স্টেশন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৭ হাজার ৮৭০ পিস ইয়াবা।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ এসপি মো. মাশকুর রহমান বলেন, কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে, গোপন সূত্রে এমন সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের একটি টিম কোতোয়ালী থানার স্টেশন রোডে অভিযান চালায়। এসময় ফেনী ট্রেডার্স নামে একটি দোকানের সামনে থেকে ওই বিমানবালা ও তার প্রেমিককে আটক করে। পরে তাদের ব্যাগ তল্লাশি করে ৭ হাজার ৮৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হবে।ঢাকাট্রিবিউন//